More
    Home সাহিত্য স্বাধীনতা কার?

    স্বাধীনতা কার?

    এমদাদুলহক সবুজ,,কাওসার স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সবেমাত্র কলেজে পা রেখেছে, সে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ সে। কলেজে পদার্পণ করার সাথে সাথে কলেজের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্র নেতারা তাহাকে নিজ নিজ দলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হইয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। ওরা জানে কাওসারের বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, তাই ইসলামী ছাত্র শিবির বাদে বাকি দলগুলো যথা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয় ছাত্রসমাজ প্রত্যেকেই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পক্ষের দল হিসেবে নিজেদের জাহির করছে।

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বলছে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আহ্বানে বাংলার আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলো। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বলছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতাকামী জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছিলো। আর

    জাতীয় ছাত্রসমাজ বলছে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের কোন নেতৃত্ব ছিলোনা, কিন্তু আমরা যেহেতু স্বাধীনতা বিরোধী নই এবং স্বাধীনতা বিরোধী দলের সাথে আতাত করে কখনও সরকারে আসিনি তাই আমরাই স্বাধীনতার পক্ষের দল।

    কাওসার আজকের পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্মন্ধে কিছুই জানার চেষ্টা করেনি বিধায় আজকে কোন পক্ষকে সমর্থন দিতে পারেনি। সে সকলের সাথে সখ্যতা রেখে বল্লো আমাকে কয়েকটা দিন সময় দেন আমি একটু ভেবে জানাবো।

    পরের ৪/৫দিন সময় অনেকের সাথে আলোচনা করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক তথ্য জানতে না পেরে মনে মনে হতাশা অনুভব করছিল।

    একরাতে কাওসার ও তার পিতা রহমত সাহেব একসাথে রাতের খাবার খেতে বসছে। তিনি ভাত খাচ্ছেন আর মাঝে মধ্যে ছেলের দিকে তাকাচ্ছেন।
    রহমত সাহেব,, কিরে তর কি অইছে?
    এমন মনমরা অইয়া আছস কেরে?
    কাওসার,, না বাবা কিছুই অইছেনা।

    রহমত সাহেব,, মাত্র কয়দিন অইলো তরে কলেজে ভর্তি কইরা দেয়াইলাম,এর মাঝে কেউর লগে কাইজ্জা ঝগড়া করছস নাতো?

    কাওসার,, না বাবা কেউর লগে কাইজ্জা ঝগড়া না, আমি যেইদিন কলেজে ভর্তি অইছি এর পরে থেইক্যা বেবাক দলের নেতারা আমার লগে কয় আমরা স্বাধীনতার পক্ষের দল, তুমি আমরার দলে আইয়ো। ছাত্রলীগ কয় হেরা স্বাধীনতার পক্ষের দল, ছাত্রদল কয় হেরা স্বাধীনতার পক্ষের দল, ছাত্রসমাজ কয় হেরাও নাহি স্বাধীনতার পক্ষের দল। আমি বেহেরে কইছি আমারে কয়ডা দিন সময় দেইন আমি একটু চিন্তা ভাবনা কইরা জানাইবাম। গত ৪/৫দিন ধইরা অনেহেরট্টে জিগাইলাম কেউ বালা কইরা কইতো পারেনা স্বাধীনতার কথা, এর লাইগ্যা মনডা একটু খারাপ আছিন। জানা দরহার আসলে কেডা স্বাধীনতার পক্ষের দল।

    রহমত সাহেব,, দীর্ঘ সময় ছেলের কথা শুনে জিজ্ঞেস করলেন, কাইল তর কলেজ কি বন্ধ?
    কাওসার,, জী বাবা।

    রহমত সাহেব,, অহনই খাওন শেষ কইরা তর দাদির ঘরে যা, আইজ রাইত তর দাদির লগে থাহিস। উনার কাছে জিগাইলে সবকিছু জানতে পারবে।

    কাওসার তার বাবার কথামত রাতের খাবার শেষ করে তার দাদির ঘরে প্রবেশ করে। কাওসারের দাদি অনুফা বেগম পূর্ব জমানার মেট্টিক পাশ। বর্তমানে নব্বই এর উর্ধে বয়স তার। খুব সৌখিন মানুষ, বৃদ্ধ বয়সেও খুব পরিপাটি অবস্থায় থাকেন। কাওসার ঘরে প্রবেশ করেই দেখে তার দাদি এশার নামাজ পড়ছেন। সে তার দাদির টেবিলে একটা চেয়ার টেনে বসে টেবিলের উপরে রাখা কুরআন শরীফ খোলে দেখতেছিল এর মাঝেই নামাজ শেষ করে অনুফা বেগমের চোখ গেলো টেবিলের দিকে।
    অনুফা বেগম,, কিরে অজু ছাড়াই কুরআন শরীফ ধরছস নাহি?

    কাওসার,, না দাদি, এইমাত্র খাওয়া শেষ কইরা যাঁতাকল থেইক্কা অজু কইরা আইছি। বাবা কইলো আইজ রাইত তোমার লগে থাকতে। তুমি খাইছো দাদি?

    অনুফা বেগম,, নারে ভাই, তর মা আমার লাগি অহন রুডি বানাইয়া লইয়া আইবো।
    বলতে বলতে কাওসারের মা সালেহা বানু গরম রুটি ও কচুর শাক নিয়ে উপস্থিত।
    সালেহা বানু,, আম্মা নমাজ পড়া অইছে?
    অনুফা বেগম,, অ মা আইয়ো ঘরের ভিতরে আইয়ো।

    সালেহা বানু ঘরে গিয়ে দেখে তার ছোট ছেলে কাওসার তার দাদির পাশে একটা চেয়ারে বসা। মাকে দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো কাওসার।

    অনুফা বেগম,, পুত্রবধু সালেহাকে জিজ্ঞেস করছে, তুমি খাইছো বৌমা?
    সালেহা বানু,, না মা,আফনেরে খাওন দিয়া গিয়া খাইবাম। সালেহা বানু তার শ্বাশুড়িকে উদ্দেশ্য করে বলছে, আফনার পুতে কাওসারেরে আফনার কাছে পাডাইছে আফনার কাছ থেইক্যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জাননের লাইগ্যা।

    অনুফা বেগম,, অ এর লাইগ্যাইতো নাগর এই ঘরে।
    অনুফা বেগম যথারীতি রাতের খাবার শেষ করে নাতি কাওসারের সাথে স্বাধীনতার যুদ্ধের ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করলো।

    অনুফা বেগম,, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের পয়লা থেইক্যা বাংলার গেরামে গঞ্জে ও শহরে মেলার মত আনন্দের ঢেউ বইছিন। মার্চ মাসের ৭ তারিখে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিবে এর লাইগ্যা মানুষজন ঢাহার পথে আডা ধরে। তর বাপও ওই সময় গাঁয়ের মানুষের লগে ঢাহা গেছিলো। ঐ সময় তর বাপের খাওনের লাইগ্যা কিছু ফুলি পিডা আর কিছু গুড় মুড়ি লগে দিয়া দিছিলাম।

    তর দাদা যহন জাহাজের সারেং আছিন তহন জার্মান থেইক্যা একটা কাডের রেডু আনছিন। গাঁওয়ের বেবাক মানুষ খবর হুননের লাইগ্যা বেন্যাবেলা আর হাঞ্জাবেলা তরার বাংলা ঘরে ভীড় জমাইতো। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ৭ তারিখ হাঞ্জাবেলা আধা গাঁওয়ের মানুষ তরার বারবাড়িতে জমা অইছিন। অতথা মানুষ থাকতেও একটা টু শব্দও আছিন না। বেহই অপেক্ষা করছিন শেখ মুজিবের কথা হুননের লাইগ্যা। দেওরীর ভিতরে বাইক্যা আমিও শেখ মুজিবের ভাষণ হুনছিলাম। শেখ মুজিবুরের গলার আওয়াজ কত মোডারে ভাই, তার ভাষনের আওয়াজে রেডু পর্যন্ত কাঁপতাছিন। অনেক কথা কইলো ভাষনে বেবাকতা আমার মনে নাই। শেষে কইলো আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, জয় বাংলা।

    দুই দিন পরে তর বাপ ঢাহা থেইক্যা বাড়িতে আইলো, হের কাছে যা হুনলাম তাতে মনে অইলো দেশের আধাআধি মানুষ ঢাহা গেছিলোগা।

    Most Popular

    ২০১৬ সালের নির্বাচনের চেয়েও বড় ব্যবধানে জিতব : ট্রাম্প

    ওয়াশিংটন, ২২ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২০১৬ সালের চেয়েও বড় ব্যবধানে তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে পারবেন।...

    রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে কমনওয়েলথের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ঢাকা, ২২ অক্টোবর- লন্ডনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘টুওয়ার্ডস সাসটেইনেইবল জাস্টিস, অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড রিটার্নস : দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস ইনটু ফোর্থ ইয়ার’ শীর্ষক উচ্চ...

    এবার মেঘালয়ের সব বাঙালিকে বাংলাদেশি দাবি

    ঢাকা, ২২ অক্টোবর- এবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের সব বাঙালিকেই ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করা শুরু হয়েছে। আর এমন দাবি তুলেছে খাসি ছাত্র সংগঠন...

    অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নিয়ে প্রাণ গেল স্বেচ্ছাসেবকের

    রিও ডি জেনেরিও, ২২ অক্টোবর- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা টিকা নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ব্রাজিলের এক স্বেচ্ছাসেবক। তবে ওই টিকার ট্রায়াল এখনও বন্ধ...