More
    Home Lead News 2 রিফাত হত্যা মামলার রায়: স্বজনদের কান্নার রোল

    রিফাত হত্যা মামলার রায়: স্বজনদের কান্নার রোল



    বরগুনা, ৩০ সেপ্টেম্বর- বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামিরা আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন স্বাভাবিকভাবে। এরপর রায় ঘোষণা করা হলে তারা এজলাসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানিয়েছেন আদালতে উপস্থিত থাকা কয়েকজন আইনজীবী। সেই সঙ্গে রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন আদালতের বাইরে থাকা আসামিদের স্বজনরা।

    তবে ব্যতিক্রম ছিলেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী। রায়ের পর হাসতে হাসতে আদালত থেকে বেরিয়ে প্রিজনভ্যানে উঠেন তিনি।

    এ সময় রিফাত ফরাজী বলেন, আমরা সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। অতীতে যা হয়েছে তা আল্লাহ করেছেন আর ভবিষ্যতে যা হবে সেটাও আল্লাহই করবেন।

    বুধবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আদালত থেকে আসামিদের কারাগারে নেয়ার সময় প্রিজনভ্যানে ওঠার মুহূর্তে এসব কথা বলেন রিফাত ফরাজী। তবে আশপাশের থাকা স্বজনদের কান্নার শব্দের অন্যদের বক্তব্য স্পষ্ট শোনা যায়নি। এ সময় শুধু আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন কাঁদছিলেন। অন্যদের হতাশাগ্রস্ত দেখা যায়।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

    রায়ের মূল অংশ শোনার পরই আসামিরা হতাশ হয়ে পড়েন। এজলাস থেকে আসামিদের জেলা কারাগারে নেয়ার সময়ও তাদের কাঁদতে দেখা যায়।

    আরও পড়ুন: বাড়ি ফেরা হলো না, গ্রেফতার হলেন মিন্নি

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এ রায়ে খুশি। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

    রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, পাঁচজনের সহযোগী হিসেবে রিফাত শরীফ হত্যায় অংশ নিয়েছেন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। একই সঙ্গে তারা ছয়জন রিফাতের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। এজন্য কলেজগেটের সামনে সময়ক্ষেপণ করেন মিন্নি। রিফাতকে যখন মারার জন্য আসামিরা নিয়ে যাচ্ছিল তখন স্বাভাবিক ছিলেন মিন্নি। এতেই প্রমাণিত হয়, মিন্নি হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারই পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এজন্য তাদের ছয়জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

    ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।

    ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দুভাগে বিবক্ত করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

    আরও পড়ুন: সাহসী স্ত্রী থেকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নি

    ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

    এর আগে ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেন। তার আগে ২১ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালত মিন্নির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    সূত্র : জাগো নিউজ
    এম এন / ৩০ সেপ্টেম্বর

    Most Popular

    এশিয়ার প্রথম নারী ডিজেল রেল ইঞ্চিন চালক মুমতাজ

    এশিয়ার প্রথম নারী ডিজেল রেল ইঞ্চিন চালক হলেন মুমতাজ। তিনি ১৯৯৫ সালে লিমকা বুক অফ রেকর্ডস-এ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এখানেই শেষ নয়, মুমতাজই...

    যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবরের সামনে নতুন লক্ষ্য

    ঢাকা, ১ নভেম্বর- বাংলাদেশকে প্রথমবারেরমত বিশ্বজয় করার গৌরব এনে দিয়েছিলেন তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন যুব ক্রিকেট দল। সেই আকবর আলী এখন নিজেকে গড়ে...

    স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছে স্ত্রী!

    মৌলভীবাজার, ১ নভেম্বর- মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছে এক স্ত্রী। শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের এক...

    টাকা শোধ দিতে না পারায় মহিলার শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

    নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর- মা টাকা ধার নিয়েছিল। সময়মতো দিতে পারেনি। আর সে কারণে তাঁর দু’‌বছরের কন্যা সন্তানের উপরেই অকথ্য অত্যাচার করার...