More
    Home মতামত বন্যা: প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ উত্তম

    বন্যা: প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ উত্তম

    নূরুদ্দীন আহমেদঃ পৃথিবীর বৃহত্তম ব- দ্বীপ বাংলাদেশ। দেশটির বহিঃসীমার অল্পকিছু অংশ মিয়ানমার বাদে প্রায় তিন অংশ জুরেই ভারতের অবস্থান আর এক অংশে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর। ভারতের হিমালয়ের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আর মিয়ানমার থেকে এসে প্রবেশ করেছে বেশ কয়েকটি নদী।
    আর এ নদীগুলোই দেশটিকে করেছে বৈচিত্র্যময়। এ নদীগুলোর শাখা-উপশাখা মিলে নদীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুইশত ত্রিশটির মতো।
    এজন্যই সুজলা, সুফলা, শষ্য-শ্যামলা, সবুজের সমারোহ পুরো দেশটি জুড়ে। এজন্যই কবি তৃপ্ত মনে লিখেছিলেন, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সে যে আমার জন্মভূমি।
    তবে প্রকৃতি যেমন মানুষকে নানা সম্ভাবনার পথ উন্মোচন করে দেয় তেমনি মানুষ এইসব সুবিধার সদ্যব্যবহার করতে না পারলে উল্টো প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে।
    সম্ভাবনাময় দেশটিও এই প্রতিশোধের বাহিরে নই। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে( জুন-সেপ্টেম্ভর) বন্যা নামক দূর্যোগের কবলে পতিত হয়। দিন দিন আবহাওয়া ও জলবায়ু ব্যপক হারে পরিবর্তিত হচ্ছে। এর বৈরী প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মত নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলির উপর।
    তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে গলতে শুরু করে হিমালয় পর্বতের বরফ কিংবা ভারতে দেখা দেয় অতি বৃষ্টি। সম্প্রতি বাংলাদেশের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি, আসাম, মেঘালয়সহ হিমালয়ের পাদদেশে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হচ্ছে। সোর্স:ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর)।
    সেই পানি দ্রুত বাংলাদেশের দিকে নেমে আসে। দেশের ভেতরও বৃষ্টি বেড়ে গেছে। এ কারণে ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। গতকাল ২৭শে জুন প্রথম আলোর প্রতিবেদন মারফত জানতে পারি, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
    বগুড়া ও সিরাগঞ্জে বন্যা শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে বন্যার পানি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের ১৮ জেলায় বিস্তৃত হতে পারে। কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা নদী ও ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
    ১৬টি নদ–নদীর মধ্যবর্তী ৪২০টি চরের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় ৩৭ হেক্টরের আউশ, ৯৩ হেক্টর তিল এবং ৬ হেক্টরের মরিচ পানিতে ডুবে গেছে।
    এই বন্যা থেকে বাঁচার উপায় আছে কি নেই? বন্যা যেহেতু প্রাকৃতীক দূর্যোগ, প্রতিকারের আশা নেই তবে প্রতিরোধে যতদূর সম্ভব মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার বয়ে চলা নদী তিস্তা নদীর ‘তিস্তা বন্টন চুক্তির’ একটা সুরহা করা খুব প্রয়োজন।
    শুকনো মৌসুমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাধঁ দিয়ে এ নদীর পানি বাংলাদেশে আসার পথ রুদ্ব করে দিলেও বর্ষা মৌসুমে যখন ভারতে পানির পরিমাণ বেড়ে যায় তখন ঠিকই এই বাধঁ খুলে দেয়।
    আর তাতেই এই বঙ্গে বাধে বিপত্তি। দির্ঘদিন ধরে জুলে থাকা তিস্তা বন্টন চুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে দিপাক্ষীয় সমাধানে পৌছা উচিত।
    নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। কৃষিপ্রধান এই দেশের কৃষককে বাঁচাতে হলে, নিজেদের খাদ্য সয়ংসম্পূর্নতা ধরে রাখতে হলে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়কে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। প্রয়োজন কার্যকরী নদী শাসন কার্যক্রম।
    ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা নদী কংশ নদীর অংশবিশেষে বর্তমানে ড্রেজিং করা হয়েছে। তবে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদীটির বেহাল অবস্থা চলে।
    এক সময়ের খরস্রোতা নদীটি হারিয়ে ফেলেছে নাব্যতা। ফলে বন্যার প্রকোপ বেড়ে গেছে এ অঞ্চলে। সংকটাপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘ব্রহ্মপুত্র বহুমূখী নদীশাসন প্রকল্প’ নিলেও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে প্রকল্পটি টানা ১২ বছর ধরে ফাইলবন্দী।
    এ প্রকল্পটির যথাযোগ্য্য বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এখন যেহেতু বর্ষা মৌসুম সেহেতু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সারা দেশের বন্যা প্রবণ এলাকাগুলি সুনির্দিষ্টবাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সুনামগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চলগুলিতে নতুন বাধ স্থাপন ও পুরোনো বাধগুলি সংস্করণ করতে হবে।
    দেশের ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ নদী পাড়গুলো বাধঁ দিতে হবে,ভেঙ্গে যাওয়া বাধঁগুলি সংস্কর করতে হবে। হাওর অঞ্চলে সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন ডুবন্ত বাধেঁর ভাঙন বন্ধকরণ/ বিনির্মাণ, সংস্কার ও মেরামত কাজ যথেষ্ট তদারকির সাথে সম্পন্ন করতে হবে।
    গত ১৪ই জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বৈঠকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, প্রচার ও দ্রুত উদ্যেগ গ্রহণ,গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান/বাধ পরিদর্শন, বর্ষা মৌসুমকালীন মাঠপর্যায়েত কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল,বন্যা পূর্বাভাস ও সরকারী তথ্য প্রেরণসহ ১০টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্বান্ত নিয়েছে।
    এইসব সিদ্বান্তগুলি ফাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফলপ্রসু হবে বলে আশা করছি।
    লেখক- নূরুদ্দীন আহমেদ, শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

     

    Most Popular

    শান্তিপূর্ণ ভাবে রাজাপালং ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচন সম্পন্ন-হেলাল বিজয়ী

    মোঃ শহিদ উখিয়া : কক্সবাজারের উখিয়ায় রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত...

    শিবচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বিএনপির ফলাফল প্রত্যাখান,পুনরায় ভোট দাবী

    নাজমুল মোড়ল, মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনের বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার ফলাফল প্রত্যাখান করেছেন। একই সাথে পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ভোট...

    শৈলকুপায় ৫’শত গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

    সুলতান আল একরাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ৫’শত গ্রাম গাঁজাসহ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মিঠু শেখ (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)...

    দৌলতখানে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ আহত-১০

    মোঃ ছিদ্দিক ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার দৌলতখানে পৌর নির্বাচনের প্রচারনাকে কেন্দ্র করে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, দাওয়া পাল্টা...