More
    Home কলমেই মুক্তি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা : শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

    প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা : শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

    রাশেদুল ইসলাম রাশেদ : শিক্ষা একটি মূল্যবান সম্পদ। জীবনে শিক্ষার কোনে বিকল্প নেই৷ শিশুদের হাতেখড়ি পরিবারে হলেও তাদের শিক্ষা জীবনের মূল ভিত্তি রচিত হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় তথা প্রাথমিক স্তর থেকে। কাজেই শিক্ষার এ প্রাথমিক স্তরটি প্রত্যেক অভিভাবক এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 
    শিশুরা অনুকরণপ্রিয় এবং জন্মগতভাবে মেধাবী।শিশুর মেধাকে যদি সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা করা যায়, তবে সে শিশু অবশ্যই সঠিক বুদ্ধিমত্তা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে বড় হবে৷ এক কথায় শিশুদের যে আদর্শে অনুপ্রাণিত করা হবে,আমৃত্যু তা তাদের মস্তিষ্কে স্থায়ীত্ব পাবে।শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার এ গুরুভার দায়িত্ব প্রত্যেক শিক্ষককে অত্যন্ত সততা, সৎ সাহস এবং দৃঢ়তার সাথে পালন করা উচিত ৷গতিশীল এই অত্যাধুনিক যুগে কোনো শিশু যাতে এতটুকুও পিছিয়ে না পরে,সে ব্যাপারে প্রত্যেক শিক্ষকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
    শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না এমন বাক্য ছোট বেলা থেকেই আমরা বুঝে বা না বুঝে মুখস্থ করে এসেছি এবং এগুলো অতিশয় সত্য বাণীও বটে। আর এ মেরুদণ্ড যে কারখানায় তৈরি হয় তার নাম প্রাথমিক বিদ্যালয়।
    একটি শিশু ভবিষ্যতে কতটুকু ন্যায় নীতিবান, আদর্শবান,চরিত্রবান হবে কিংবা দেশ, জাতি, সমাজের প্রতি কতটুকু দায়িত্বশীল হবে এটি অনেকাংশেই নির্ভর করে তাঁর প্রাথমিক জীবনের শিক্ষার উপর। প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তাই অপরিসীম।
    প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কি করা উচিত, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, সমাজ এবং শিক্ষকের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সমস্যা এবং তা উত্তরণে কিইবা করণীয় সে সব বিষয় নিয়ে আলোকপাত করাই এই লেখাটির মুখ্য উদ্দেশ্য।
    প্রশ্ন  হচ্ছে, শিক্ষার হার বাড়লেই কি আদর্শবান জাতি হওয়া যায়? আমরা একজন শিক্ষিত মানুষের কাছে যে ধরনের ব্যবহার আশা করি, যে ধরনের সেবা প্রত্যাশা করি তা কি বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রে সবসময় পাই? এর জবাব সবার জানা।
    যে ছেলেটি ৫ম কিংবা ৮ম শ্রেণি পাশ করে পিয়নের চাকরি নিয়ে বড়কর্তার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে কি আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নুন্যতম সৌজন্য বোধ শিখিয়েছে? কি ভাবে একজন সেবা প্রত্যাশী অপরিচিত মানুষকে সম্বোধন করতে হয়-তা কি শিখিয়েছে? তাকে কি শিখিয়েছে যে সে যখন বড় হয়ে সরকারি চাকরি নিয়ে অফিসে যাবে তখন জনগণের মালিক নয় সেবক হিসেবে ভাবতে হবে এবং সেবা দিতে হবে?
    আমার মনে হয় এসব প্রশ্নের অধিকাংশেরই জবাব হবে না বোধক। তাহলে এই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থা দিয়ে আমরা কি আদর্শ বিনয়ী ভবিষ্যত প্রজন্ম তৈরি করতে পারবো- আমার মনে হয় এটি দায়িত্বশীল সবাইকে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত।
    বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের কমবেশী সবারই জানা আছে। জাপানের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার সাথে আমাদের মৌলিক পার্থক্য হলো আমরা শুরুতেই বাচ্চাদের ঘাড়ে এক বোঝা বইয়ের ব্যাগ চাপিয়ে ভালো রেজাল্ট এর জন্য শিক্ষক অভিভাবক সবাই ছুটাছুটি করি।
    ফলে ভালো রেজাল্টধারী অনেক ছাত্র/ছাত্রী পাওয়া গেলেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ভাল মানুষের বড়ই অভাব। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এই অবস্থার পেছনে যেসব কারণ দায়ী তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল।
    আমরা জানি, এক দশক আগেও বাংলাদেশে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীর হার ছিল খুব কম এবং মেয়েদের হার ছিল আরও কম। শহরে স্কুলগামীর সংখ্যা কিছুটা বেশী হলেও গ্রাম গঞ্জে যা ছিল একেবারেই কম।
    সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে যেমন শতভাগ উপস্থিতি প্রদান, অভিভাবকদের সচেতন করতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ, শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা, সময়মত বই বিতরণ, বিনা বেতনে শিক্ষা, ফ্রি টিফিনের ব্যবস্থা, বাল্য বিবাহ রোধ প্রভৃতি কারণে স্কুলগামী ছেলেমেয়ের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি শিক্ষার হারও প্রতি বছর বেড়েই চলেছে।
    দুঃখের ব্যপার হলো শিক্ষার হার বাড়লেই, শিক্ষিত সমাজের সংখ্যা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও আমরা তাদেরকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের মাঝে দেশ প্রেম জাগ্রত করে দিতে পারছি। শিক্ষার পাশাপাশি ন্যায় অন্যায় পার্থক্য বুঝিয়ে নিজের জীবনে বাস্তবায়নের কতটুকু প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করাতে পেরেছি। যে ছেলেটি প্রাথমিক শিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বদ্যিালয় জীবনে এসে সন্ত্রাস, মাদকাশক্ত, জঙ্গীর মত আত্বঘাতী জীবনের কুফলতা তুলে ধরতে পেরেছি।
    প্রাথমিক শিক্ষা জীবনে শিক্ষকের সম্মান মর্যাদাবোধটুকু তার অন্তরে গেথে দিতে পেরেছি নাকি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গিয়ে শিক্ষকের উপর হাত তুলে উল্লাস করাকেই ছাত্রত্ব বলাটা শিখিয়েছি। চাকরী জীবনে গিয়ে নিজের দায়িত্বানুভুতি থেকে নাগরিক সেবায় নিয়োজিত করে নাকি ঘুষ দুর্নীতির মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে জাতির ধবংসের জন্য নিজের পকেট ভালী করে থাকে।
    একজন সেবা প্রাপ্তির কাছে কেমন ব্যবহার করতে হবে তা কতটুকু শিখাতে পেরেছি। সরকারের এত সুযোগ সুবিধা ও আধুনিকায়নের যুগেও আমার মনে হয় এসব প্রশ্নের অধিকাংশরাই বলবেন আমরা চেষ্টা করেছি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। এই শিক্ষা দিয়ে একটি দেশ ও জাতির বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে।
    বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা তাদের শিশু কিশোররা প্রাথমিক জীবনে যা অর্জন করে আমরা প্রাথমিক পর্যায়েও তা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। কারণ মুল ভিত্তি তৈলী স্থান হলো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সেখানেই ত আমরা নয় ছয় দিয়ে পার করে তাদেরকে পরবর্তী জীবনকে ধবংস করে দিচ্ছি।
    পৃথিবীর সমৃদ্ধ দেশগুলোতে একজন কিশোর তার টিনেজ বয়স থেকে কর্মমূখী হয়ে নিজে স্বাবলম্বী হয় আর দেশের জন্য নিজেকে সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুত করে রাখে কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষার  হার যত বাড়ছে বেকারত্ব ততই গ্রাস করছে। কর্মমূখী শিক্ষা থেকে দুরে তাদেরকে পুথিগত বিদ্যার ডুবিয়ে রেখে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে বেকারত্বের অভিশাপে বুকে  বয়ে বেরাতে হচ্ছে।
    আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে গণমাধ্যমে দেখেছি।প্রাথমিক শিক্ষা জীবন থেকেই শিশুরা কিভাবে তাদের প্রাত্যাহিক জীবন ব্যয় করতে হবে,কোনটা কেন সঠিক নয়, স্কুলের নিয়ামুবর্তিতামরাস্তায় চলাচলের নিয়মুনুবর্তিতা সম্পর্কে সব্বোচ্চ সচেতন থাকে।
    রাস্তা পারাপারের সময় কোন চিত্র ব্যবহার করলে কিভাবে চলতে হবে তা সম্পর্কে পরিপূর্ন ধারনা নিয়েই পথ চলে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে একটু তুলনা করে দেখা যাবে শিশুরা ত দূরের কথা এই নিয়মগুলো আমরা শিক্ষকরাই জানি না। তাহলে কি শিক্ষা দিচ্ছি তাদের। কি শিখছে আমাদের কাছ থেকে। যে সময়টা মুল ভিত্তি তৈরীর তখন তাকে কি পুজি দিয়ে তাদেরকে প্রাথমিক জীবন থেকে বিদায় দিচ্ছি। একবার ভেবেছি কি কখনো।
    প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকার এত গুরুত্ব প্রদান করার পরেও  এই অবস্থার পেছনে যেসব সমস্যা মনে করি তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবঃ

    ১. নিজের দায়িত্ব পরিপূর্ন ভাবে পালন না করা

    আমরা যারা প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত তাদের মনে রাখতে হবে আমাদের শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালনই আমাদের কাজ না বরং একজন সন্তানকে গড়ার জন্য যেরকম চতুর্মুখী চিন্তা করে সন্তানের ভবিষ্যত গড়তে ঠিক তেমনি শুধু শিক্ষা নয় একটি শিশুর জীবন গঠনে র্পূনাঙ্গ দায়িত্ব পালন করা।

    ২. নৈতিকতা শিক্ষা না দেয়া

    প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের সিলেবাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সেখানে নৈতিক শিক্ষা  বা নীতি কথার চেয়ে তাও্বিক কথা অনেক বেশী যা বাচ্চারা মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশের জন্য। আবার পরক্ষণে তা  ভুলেও যায়। আচরণগত শিক্ষা দেয়া হয় খুবই কম, এমনকি প্রতিদিন লাইনে দাঁড় করিয়ে যে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয় তার অর্থ হৃদয় দিয়ে কতজন ছাত্র ছাত্রী অনুভব করে তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া কিছু পাঠ্য কথা রয়েছে যা দিয়ে অন্যায় কাজে অনুভুতি জাগ্রত করে এবং অবস্তাব অকল্পনীয় কিছু শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলি। সত্যিকারের নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হওয়ার মত সিলেবাস থেকে আমরা অনেক দুরে।

    ৩. মান সম্পন্ন শিক্ষকের অভাব

     শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করলেই যেমন শিক্ষিত হওয়া যায়না তেমনি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আর যাই হেকে শিক্ষকতা পেশাই আসা ঠিকনা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমরা অধিকাংশরায় এই মানষিকতার হয়ে গেছি।   বলতে দ্বিধা নেই, যারা মানুষ গড়ার কারিগর, তাদের অনেকেরই নৈতিক মান নিয়ে অনেক খবর আমাদের নজরে আসে।
    ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোর মহান দায়িত্ব যাদের তারা শিক্ষকতা নামক মহান পেশাটিকে নেহায়েতই আয় রোজগারের একটি উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বা নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষকতা করার যোগ্যতা সর্ম্পকেই প্রশ্ন চলে আসে। নিজেই যদি এসব বিষয়ে অজ্ঞ থাকে তাহলে কোমলমতিদের কি শিক্ষা দিবে।
    অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হিসেবে উপস্থাপন
    কিছু মানুষ জগতে সবসময় থাকবে যারা নিজেদের অযোগ্যতাকে ঢাকতে সবসময় প্রভাব বিস্তারকারী ব্যাক্তি বা গোষ্টির তাবেদারিতে ব্যস্ত থাকে বা যখস যে রাজনৈতিক ক্ষমতায় থাকে তাদের অনুকম্পা পাওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকায় নিজের দায়িত্বটুকুও ভুলে যায়। যারা মহান পেশাগুলোতে ব্যাপকহারে দায়িত্বহীনতার ব্যাপার ঘটে যায়।

    ৪. শিক্ষকের অপ্রতুলতা 

    বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকের যে অনুপাত তা মানসম্মত শিক্ষার জন্য মোটেও উপযোগী নয়। একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলার জন্য যে জনবল প্রয়োজন সেই তুলনায় সংখ্যাটা অপ্রতুল। যার কারনে কাক্সিখত লক্ষ্যে পৌছার চিন্তা থাকলেও সীমাবদ্ধতার কারনে অনেক সময় পিছু হটতে হয়।

    ৫. শিক্ষার পরিবেশের অভাব

    আদর্শবান জাতি গঠনের লক্ষ্যই সুস্থমেধা বিকাশ উপযোগী যে ধরনের শ্রেণি কক্ষ দরকার তা অনেক বিদ্যালয়েই অনুপস্থিত। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে বসার বেঞ্চ নেই,  টয়লেট নেই, খেলার সামগ্রী নেই। যা প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে অত্যন্ত জরুরি।

    ৬. দারিদ্র

    বাংলাদেশে এখনও অনেক পরিবার দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। এসব পরিবারের মা-বাবারা মনে করেন তার সন্তান স্কুলে গিয়ে যে বৃত্তি পাবেন তার চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারবে বাসাবাড়ী বা বাইরে অন্য কথাও কাজ করে। ফলে তারা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ের চেয়ে জীবন জীবিকার কাজে নিয়োজিত করতেই বেশি পছন্দ করে। শিক্ষার সুদুর প্রসারী ফলাফল সম্পর্কে তাদের ধারণাও একবারেই কম।

    ৭. ব্যবস্থাপনা কমিটির দুর্বলতা

    বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি অন্যতম দায়িত্ব হলো শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করা। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসএমসির অনেক সদস্যই শিক্ষার গুরুত্ব বা গুনগত মান বৃদ্ধির বিষয়ে মোটেও সচেতন নয় । অনেকেই এসএমসির সদস্য হওয়াকে বা সভাপতি হওয়ার বিষয়টিকে সন্মান বৃদ্ধির/ক্ষমতা-আধিপত্য বৃদ্ধির/আয় রোজগার বৃদ্ধির উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শকে বিবেচনায় না এনে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং  শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদানকে বিবেচনা করার জন্য বাধ্যতা মূলক করা যেতে পারে ।

    ৮. অভিভাবকদের অসচেতনতা

    বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ যেহেতু গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষি কাজে জড়িত, স্বাভাবিক ভাবেই তারা তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে তাদের মত কৃষক বানাতে চায়। তাদের অনেকের ধারণা, পড়ালেখা করে গরীব মানুষের সন্তানদের চাকরি পাওয়া কঠিন। তা ছাড়া শিক্ষার গুরুত্ব বা সুদুর প্রসারী ফল নিয়ে চিন্তা করার মত কল্পনা শক্তিও তাদের নেই।
    সামাজিক প্রতিবন্ধকতাঃ একজন সন্তানকে মানুষ হিসেবে গঠন করতে হলে অনেক সময় কঠোরতা অবলম্বন করতে হয় সেখানে এ কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে অবিভাবক ও সমাজের অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয় বিধঅয় অনেক সময় এই ধরনের দায়িত্ব কেউ নিতে চায়না।
    প্রাথমিক  শিক্ষাকে নৈতিকতা সম্পন্ন ও  মান উন্নয়নে করণীয়:
    ক) শুধু সিলেবাসভুক্ত পড়াশুনা না করিয়ে আদর্শ ভিত্তিক নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন মানসিকতা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে।
    খ) চার বছর বয়সে স্কুলে গমন বাধ্যতামূলক করে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শুধু নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। ভাল মন্দ, নিয়ম অনিয়ম, প্রাত্যাহিক জীবনে করণীয় গুলো হাতে ধরিয়ে শিক্ষা দেয়া। ৭ বছর বয়নের  হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান শুরু করতে হবে। শুধুমাত্র মুখস্থ বিদ্যার দিকে মনোনিবেশ করার জন্য কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ না করা।পর্যাপ্ত পরিমান খেলাদুলা ও শিশুদের মনের মত বিনোধনের ব্যবস্থা করা।মাতৃপিতৃ মমতায় তাদের লালন করা। বিদ্যালয়কে পরিপাটি ও পারিবারিক বাসস্থানের মত মিশু বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলা। পাঠ্যপুস্তকের পাঠাপাশি নিয়ানুবর্তিতা শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা। শিক্ষক হিসেবে নিজেকে যোগ্যতম হিসেবে গড়ে তুলে শিক্ষা দান করা।
    গ) শিক্ষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মেধাবী, চরিত্রবান ও যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে।
    ঘ) শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামো করে তাদের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে।
    ঙ) ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কমিয়ে আনতে হবে।
    চ) শিক্ষার ব্যাপারে অভিভাবকদের আরও বেশী সচেতন করতে হবে।
    ছ) প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসে অন্তত ১ দিন একজন সফল ব্যক্তিত্বকে দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের কে ভবিষ্যৎ তৈরির জন্য স্বপ্ন  দেখাতে হবে এবং জাতির ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।
    জ) সর্বপরি, সুস্থ মেধা বিকাশে  শিক্ষার পরিবেশ তৈরির জন্য যা যা প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা নিশ্চিত করতে হবে।
    পরিশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই যে প্রতিটি শিশু জ্ঞান- শৃঙ্খলা, আচার-আচরণ,শরীরচর্চা, খেলাধুলা, কম্পিউটার শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় ও মানবীয় গুণাবলিতে বেড়ে উঠে শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব সভ্যতায় যেন অবদান রাখতে পারে সে লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে।                     
    লেখকঃ অধ্যক্ষ, শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর।

    Most Popular

    আশাশুনির তুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএমসির সভা

    আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ আশাশুনির তুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি'র সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে তুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত...

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি।

    সুমন পল্লব, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে করেন চট্টগ্রাম রেন্জের পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃজাকির হেসেন খাঁন । শনিবার ২৪অক্টোবর বিকেলে উপজেলা...

    গলায় ফাঁস দিয়ে এক শ্রমিকের আত্মহত্যা

    সুলতান আল একরাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় সলেমানপুরে শ্রী সুজন কুমার (৩৫) নামে এক শ্রমিকের গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যর ঘটনা ঘটেছে। (২৪ অক্টোবর) শনিবার...

    সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উদ্বোধন করেন এমপি রবি

    আহসান উল্লাহ বাবলু সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৪...